বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার নিয়ম ২০২২ [কোডসহ]

আপনাদের সকলের চাওয়ার প্রেক্ষিতে আজকে শুরু করতে যাচ্ছি বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার নিয়ম ও কোড ২০২২ এই অনুচ্ছেদটি। বর্তমানে বাংলালিংক তাদের ইন্টারনেট সেবায় এনেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বাংলালিংক 5g স্পিড এর মাধ্যমে বর্তমানে সারা দেশব্যাপী তাদের ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছেন। বাংলালিংকের গ্রাহকগণ বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন সেবা পেয়ে থাকেন। ইন্টারনেট সেবা ছাড়াও আরো অন্যান্য সেবা এর অন্তর্ভুক্ত। আজকে আমরা সেরকম একটি সেবার কথা উল্লেখ করতে চলেছি।

 

 

আজকে আমরা বাংলালিংক এর ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। এটি একটি বড় কাস্টমার সেবার অন্তর্ভুক্ত কারণ একজন কাস্টোমার সবথেকে বেশি বিপদে পড়লেই এই ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সকল গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে বাংলালিংকের সকল মোবাইল অপারেটরগন এই সুবিধা নিয়ে এসেছে তার মধ্যে বাংলালিংক অন্যতম। আজকে আমরা এই পোস্টটি দ্বারা আমাদের ওয়েবসাইটে বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এর যাবতীয় তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করব। আপনি যদি বাংলালিংক গ্রাহক হয়ে থাকেন, এবং আপনার যদি ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের সঙ্গে থাকুন। যে সকল গ্রাহকগণ বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার প্রয়োজন আছে তারা আমাদের এই পোস্টটি সম্পূর্ণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করুন।

বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর কোম্পানি। বাংলালিংক তাদের গ্রাহক সেবার মধ্যে অন্যতম। বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স অন্তর্ভুক্ত করেছে অনেক আগেই। একজন গ্রাহক যখন তার মোবাইলে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেয় তখন সে সেটা ধার হিসেবে নেয় এবং পরবর্তীতে রিচার্জের মাধ্যমে সেটি ফিরিয়ে দেয়। কথা গুলি সুনতে অনেক সহজ হলেও এটি গ্রাহকের জন্য অনেক বড় একটি সুবিধা। গ্রাহকরা যখন অনেক বিরক্তিকর কিছু অনুভব করে যেমন তার মোবাইলে টাকা ফুরিয়ে যাওয়া ঠিক সেই সময় অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলে আসা যা মোবাইলে ব্যালেন্সের প্রয়োজন অনুভব করায়।

 

 

অনেক সময় এমন হয় যে আমরা আমাদের প্রিয়জনদের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর সময় আমাদের মোবাইলে ব্যালেন্স ফুরিয়ে যায়, ব্যালেন্স ফুরিয়ে যায় এমন একটি সময় যে পুনরায় সেটি রিচার্জ করা কোন পক্ষেই সম্ভব হয় না। কারণ অনেক সময় আশেপাশে রিচার্জ করার দোকান পাওয়া যায় না । অনেক সময় এমন সময় রিচার্জ ফুরিয়ে যায় যে দোকানগুলো বন্ধ থাকে ঠিক তখনই কাজে লাগে বাংলালিংক এ ইমারজেন্সি ব্যালেন্স। শুরুতেই আমরা বলেছি যে আমরা আজকে বাংলালিংকের ইমারজেন্সি ব্যালেন্স কিভাবে নিতে হয় সে বিষয়ে আলোচনা করব, তো চলুন কথা না বাড়িয়ে এখন সে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

 

 

বাংলালিংকের ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার কোড ও নিয়ম

এই ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে হলে আপনাকে প্রথমত বাংলালিংকের গ্রাহক হতে হবে। আপনি যদি আপনার সিমটি তে 30 টাকা বা এর কম টাকা রাখেন তাহলে আপনি ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে পারবেন। এর পরবর্তীতে আপনাকে কিছু ইউএসএসডি কোড ডায়াল করে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে হবে।

 

 

* প্রথমত আপনাকে মোবাইলের ডায়াল প্যাড অন করতে হবে।

* ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে আপনাকে চেক করতে হবে আপনি এর আওতায় আছেন কিনা এবং সেটি চেক করতে আপনাকে *874*9# ডায়াল করতে হবে।

* এবার আপনি যদি ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এর আওতায় থাকেন তাহলে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে ডায়াল করুন *874# এই ইউএসএসডি কোড টিতে।

* সঙ্গে সঙ্গে আপনি আপনার মোবাইলে একটি কনফার্মেশন এর মাধ্যমে আপনার ইমারজেন্সি ব্যালেন্স পেয়ে যাবে।

* তবে গ্রাহকগণের মাসিক ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এর টাকার পরিমান পরিমান নির্দিষ্ট করা হয়।

 

উপরের অংশটুকু যে সকল গ্রাহকগণ পড়েছেন তারা হয়তো বুঝে গিয়েছেন যে বাংলালিংক থেকে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার পদ্ধতি কতটা সহজ। শুধুমাত্র একটি পদ্ধতি অবলম্বন করলেই আপনি বাংলালিংক থেকে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে পারবেন এবং শুধুমাত্র একটি ইউএসএসডি কোড ডায়াল করলে এটি সম্ভব। তাই আপনারা যারা বাংলালিংক গ্রাহকগণ আছেন এবং যাদের ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এর প্রয়োজন রয়েছে তারা ঝটপট এই ইউএসএসডি কোড ডায়াল করে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে পারেন।

 

বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এর কিছু শর্তাবলী

প্রথমত আপনি বাংলালিংক গ্রাহক হলেই যে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স পাবেন সেটি না। আপনাকে কিছু শর্ত মেনে বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে হবে। অনেকেই এই শর্তগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখেন না যার কারণে ব্যালেন্স গুলি নেওয়ার পর অনেক ভোগান্তির সম্মুখীন হন। আপনি বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এর কি কি শর্ত পালন করে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে পারবেন তা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হল।

 

আপনারা যদি বাংলালিংক হয়ে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে থাকেন তাহলে একটি বিষয় ভালো করে জেনে নিন, আপনি এই ইমারজেন্সি মেইন ব্যালেন্স যে কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবেন । এটি অন্যান্য অপারেটর গুলো করতে দেয় না।

বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার নিয়ম ও কোড ২০২২
বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার নিয়ম ও কোড ২০২২

 

 

আপনি বাংলালিংক হতে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিয়েছেন কিন্তু একটি বিষয় চিন্তিত আছেন যে এই ব্যালেন্সটা আপনি কিভাবে ফিরিয়ে দেবেন। আসলে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স হলো একটি ঋণ প্রক্রিয়া যেটা আপনি আপনার পরবর্তী মোবাইল রিচার্জের মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে পারবেন। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া আপনি পরবর্তী রিচার্জ গুলোর মাধ্যমে আস্তে আস্তে বা একেবারেই ঋণটা শোধ করতে পারেন।

 

* আপনি যদি ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিতে চান তাহলে এর যোগ্য হতে হবে। আপনার মোবাইল ব্যালেন্সে 30 টাকা বা তার থেকে কম ব্যালান্স থাকতে হবে। সচরাচর আমরা ব্যালেন্স জিরো হলে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে থাকি।

* আপনি যদি ইমারজেন্সি ব্যালেন্স হিসাবে 15 টাকা বা এর অধিক পরিমাণ টাকা নিতে চান তাহলে আপনাকে এসএমএস চার্জ বাবদ 2 টাকা অধিক দিতে হবে। এই এসএমএস চার্জ এর ভিতর এইচডি, ভ্যাট ও এসি চার্জ অন্তর্ভুক্ত।

* আপনি যদি ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে থাকেন এবং সেটা পরিষদ না করেন তাহলে পুনরায় আবার ইমারজেন্সি ব্যালেন্স পাবেন না। তাই আমাদের সকলেরই উচিত ইমারজেন্সি ব্যালেন্স পরিশোধ করে রাখা কারণ এটি অতি দরকারি একটি জিনিস যেটা হঠাৎ করেই আমাদের প্রয়োজন হয়।

* সকল বাংলালিংক প্রিপেইড গ্রাহকরা এবং কল এন্ড কন্ট্রোল গ্রাহকরা এই ইমারজেন্সি ব্যালেন্সের সেবাটি পেতে পারেন। অনেকেই হয়তো এই বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিলেন না।

* 10 টাকা ইমারজেন্সি ব্যালেন্স পেতে আপনাকে কোন আলাদা চার্জ দিতে হবে না। 10 টাকা ইমারজেন্সি ব্যালেন্স পেতে আপনাকে *874*10# এই কোডটি ডায়াল করতে হবে।

* আপনি যদি বাংলালিংক নতুন গ্রাহক হন তাহলে এই অফারটি পেতে আপনাকে 30 দিন অপেক্ষা করতে হবে। 30 দিন পার হয়ে গেলে আপনি বাংলালিংকের ইমারজেন্সি ব্যালেন্স অফারটি নিতে পারবেন।

* অনেকেই জানতে চাই যে তিনি কি বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স অফার অফার টি নিতে পারবেন কিনা। এক্ষেত্রে আপনি ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এর প্রযোজ্য কিনা সেটি দেখতে আপনাকে *874*9# ইউএসএসডি কোড ডায়াল করে জেনে নিতে হবে।

* আপনি যদি আপনার ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এর স্ট্যাটাস চেক করে নিতে চান তাহলে আপনাকে একটি ইউএসএসডি কোড ডায়াল করতে হবে। আপনি বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স এর স্ট্যাটাস চেক করতে ডায়াল করুন *874*0# অথবা *121*1# ।

* বাংলালিংক তাদের গ্রাহকদের জন্য সর্বনিম্ন 10 টাকা থেকে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স দেওয়া শুরু করেছে। বাংলালিংক তাদের গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ 100 টাকা পর্যন্ত ইমারজেন্সি ব্যালেন্স দিয়ে থাকে।

 

এই ছিল বাংলালিংক ইমারজেন্সি ব্যালেন্সের যাবতীয় নিয়মাবলী। আশা করি যাদের ইমারজেন্সি ব্যালেন্স প্রয়োজন তারা আমার এই পোষ্ট টি সম্পূর্ণরূপে খুব ভালোভাবে পড়ে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নিবেন। এই তথ্যগুলোর বাইরে ও যদি কোনো তথ্য আপনাদের প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আমরা চেষ্টা করব আপনাদের সেই তথ্যগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনাদের সামনে নিয়ে আসার।

 

সকল বাংলালিংক গ্রাহকদের ভালো ইন্টারনেট এক্সপেরিয়েন্স কামনা করে আজকের এই পোস্টটি শেষ করতে যাচ্ছি। শতভাগ সঠিক তথ্য পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন এবং আমাদের পোস্টগুলি শেয়ার করে আমাদের অনুপ্রাণিত করুন। পোস্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। এই কমেন্ট আমাদের কাছে মহামূল্যবান। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *